• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন
  • [Welcome]
নোটিশ ::
আপনার নিজস্ব লেখা- ছোট গল্প,ধারাবাহিক গল্প, কবিতা,ভূতের গল্প আমাদের ম্যাগাজিন ওয়েবসাইটে পাবলিশ করতে এক্ষুনি যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ🍁

#রমনা_কালী_ মন্দির #ঢাকা_বিশ্ববিদ্যালয়

রিপোর্টারের নাম / ৯৮ বার
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ৫ মার্চ, ২০২৪

রমনা কালী মন্দির ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত হিন্দু মন্দিরসমূহের মধ্যে অন্যতম ছিল। এটি রমনা কালীবাড়ি নামেও পরিচিত। এটি প্রায় এক হাজার বছরেরও পুরাতন বলে বিশ্বাস করা হয় কিন্তু ইংরেজ আমলে এই মন্দিরটি আবার নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছিল । বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রমনা পার্কের (যার বর্তমান নাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বহির্ভাগে অবস্থিত।বর্তমানে বাংলার সংস্কৃতিতে এ মন্দিরের উল্লেখ্য ভূমিকা আছে। ভারত সরকারের অর্থায়নে বর্তমানে মন্দিরটি পুনর্নির্মিত হয়েছে। মন্দিরের চূড়ার বর্তমান উচ্চতা ৯৭ ফুট।

জনশ্রুতি, প্রায় ৫০০ বছর আগে বদরী নারায়ণের যোশীমঠ থেকে গোপালগিরি নামে এক উচ্চমার্গের সন্ন্যাসী প্রথমে ঢাকায় এসে রমনয় কৃপাসিদ্ধির একটি আখড়া গড়ে তোলেন। সেখানেই আরও ২০০ বছর পরে মূল রমনা কালীমন্দিরটি নির্মাণ করেন আর এক বড় সাধু হরিচরণ গিরি প্রায় ৩০০ বছর আগে তাও মুঘল সেনাপতি মান সিংহ ও কেদার রায়ের সহযোগিতায়।
মূল দোতলা ভবনের উপর প্রায় ১২০ ফুট উঁচু পিরামিডিয়া চূড়া ছিলn যা সম্ভবত ঢাকার সর্বোচ্চ মন্দিরচূড়া। চুরাটি অনেকটা কলকাতার শ্যামবাজার শিব মন্দিরের মতই। মন্দিরের ভিতরে সুদৃশ্য কাঠের আসনে দেবী ভদ্রকালীর মূর্তি স্থাপিত ছিল।তবে পরবর্তী সময়ে এই মন্দিরের প্রধান সংস্কারকার্য ভাওয়ালের ভক্তিমতী ও দানশীলা রানি বিলাসমণি দেবীর আমলেই হয়।

১৯৭১ সালের ২৬ ও ২৭ মার্চ। এই দুটো দিন রমনা কালীমন্দিরে পাকিস্তানি সেনারা যে গণহত্যা পরিচালনা করেছিল তা রমনা গণহত্যা নামে পরিচিত। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী সেনা কর্তৃক মন্দিরটি ধ্বংস না হলে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের বদলে এটি বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির হতে পারত। তীর্থভূমি রাতারাতি পরিণত হয়েছিল বধ্যভূমিতে। রমনা কালীমন্দিরের অধ্যক্ষ স্বামী পরমানন্দ গিরি সহ সেখানে উপস্থিত প্রায় ১০০ জন নারী ও পুরুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল পাক সেনারা। শিশুরাও রেহাই পায়নি। এই হত্যাকাণ্ডের সময় রমনা কালীমন্দির ও আনন্দময়ী আশ্রম দাউ দাউ করে জ্বলেছিল।
রমনা কালীমন্দিরের চূড়া ছিল ১২০ ফুট, যা বহুদূর থেকে দেখা যেত। সেটিও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় ওই বর্বর সেনারা। একাত্তরের এপ্রিল-মে মাস নাগাদ ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনায় পুনরায় পাকিস্তানি সেনারা হামলা চালায়।

তদানীন্তন রেসকোর্স ময়দান ঢাকা ক্লাবের অধীনে ছিল। স্বাধীনতার পর তা গণপূর্ত বিভাগের হাতে হস্তান্তর করা হয়। গণপূর্ত বিভাগ মন্দির এবং আশ্রমের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেয়। মন্দির এবং আশ্রমবাসী যারা গণহত্যা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন তারা আবার ফিরে আসেন এবং উক্ত স্থানে অস্থায়ী ভিটা করে বসতি স্থাপন করেন। সেখানে পূজা অর্চনার জন্য অস্থায়ী মন্দির স্থাপন করেন।

২০০০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত গনতদন্ত কমিশনের সাংবাদিক সম্মেলনে রমনা কালী মন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রম ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞ গণতদন্ত কমিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপে রমনা কালী মন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রমের জমির একাংশ পুনরুদ্ধার হলে ২০০৬ সালে ভারত সরকার অনুদানে মন্দির ও আশ্রম পুনঃনির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। পুজোর্চ্চনাও শুরু হয়। ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২১ সালে রমনা কালী মন্দিরের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০বছর পূর্তিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ তা উদ্বোধন করেন আর রমনা কালী মন্দির ফিরে পায় তার ৫ শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য।

তন্ত্রশাস্ত্রে দেবী কালীর নানাপ্রকারের বিগ্রহভেদ বর্ণনা করা হয়েছে। তার মধ্যে রমনা কালী মন্দিরের কালী বিগ্রহ অন্যতম। পাথরের বেদির ওপর শ্রীশ্রীভদ্রকালীর সুউচ্চ প্রতিমা। চতুর্ভুজা মাতৃবিগ্রহ। মহাদেবের শয়ান মূর্তির ওপর দণ্ডায়মান। দু’পাশে ডাকিনী-যোগিনী। ভদ্রকালিকা দেবীর কণ্ঠে মুণ্ডমালা। লালজবার মালা। দেবী মা লাল বস্ত্র পরিহিতা। ভদ্রকালিকার একপাশে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও মা সারদামণির ছবি।
Voyage Guide Bangladesh
#রমনা_কালী_ মন্দির #ঢাকা_বিশ্ববিদ্যালয়


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
https://slotbet.online/