নদীর উৎস অনুসন্ধান করেন। পেরু এবং বলিভিয়ার সীমান্তবর্তী হিথ নদীতে এই সময়ে তিনি অভিযান পরিচালনা করেন। ব্রাজিলে থাকাকালীন একটি গবেষণার কাজের সময় তিনি হারানো এই শহরের ধারনা পান এবং নামকরন করেন জেড। এরপর তিনি ইংল্যান্ডে ফিরে যান।
সর্বশেষ এক্সপিডিসনঃ
১৯২৫ সালে ফাওকেট পুনরায় ব্রাজিলে ফিরে আসেন তাঁর বড় ছেলে জ্যাক এবং জ্যাকের এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে। পৌরাণিক কাহিনী এবং পুরনো নথিপত্র ঘেঁটে তিনি নিশ্চিত ছিলেন ব্রাজিলের ম্যাটো গ্রসো অঞ্চলের জঙ্গলের কোথাও প্রাচীন একটি শহরের অস্তিত্ত রয়েছে যার নামকরণ তিনি করেন জেড হিসেবে। অভিযানে বের হওয়ার আগে ফাওকেট নির্দেশ দিয়ে যান, তাঁরা যদি ফিরে না আসেন তাহলে যেন কোন উদ্ধারকারী দল পাঠানো না হয়, কারন তাদেরকেও একই ভাগ্য বহন করতে হবে। এতোটাই দুর্গম এবং বিপদজনক ছিল সেই অঞ্চল।
সেক্সট্যান্ট, ক্রনোমিটার, টিনজাত খাবার ইত্যাদি নিয়ে ভ্রমন করার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ছিল ফাওকেটের। হালকা মালসামান এবং স্থানীয় আদিবাসীদের চোখ এড়ানোর জন্য তাঁরা মাত্র তিনজন মানুষই রওনা দেন অজানার উদ্দেশ্যে। এইসব আদিবাসীদের কিছু রয়েছে বর্বর যারা তখনও পর্যন্ত সভ্যতার মুখ দেখেনি। হয়তো অভিযানের গুরুত্ত এবং ভয়াবহতা ফাওকেট সম্পূর্ণ অবমূল্যায়ন করেছিলেন। যেসব অঞ্চল তিনি সার্ভেইংয়ের জন্য বেছে নিয়েছিলেন, সেইসব স্থানে যাওয়া, এমনকি যাওয়ার চেষ্টা করাটাও ছিল অনেক ভয়াবহ। স্থানীয় আদিবাসীরা, বাইরের পৃথিবীর সাথে যাদের যোগাযোগ শুধুমাত্র রাবার বাগানের জন্য দাস ব্যাবসায়িদের কৃতদাস খোঁজার মাধ্যমে, সাদাদের প্রতি ছিল তাঁদের অপরিসীম ঘৃণা। তারপরও, পরাজয় মেনে নেয়ার মতো লোক ফাওকেট ছিলেন না।
১৯২৫ সালের এপ্রিলের ২০ তারিখ ব্রাজিলের কুইয়াবা থেকে তাঁদের অভিযান শুরু হয়। এই সময় তাঁদের সাথে ছিল দুইজন ব্রাজিলিয়ান শ্রমিক, দুইটি ঘোড়া, আটটি খচ্চর এবং এক জোড়া কুকুর। ১৯২৫ সালের ২৯ জুলাই তাঁদের সর্বশেষ খবর পাওয়া যায়, যখন ফাওকেট তাঁর স্ত্রীকে ডেড হর্স ক্যাম্প থেকে একটি চিঠি লেখেন। সেখানে বলা হয় জঙ্গলের অনাবিষ্কৃত অঞ্চলে তাঁরা এখন যেতে প্রস্তুত। আমাজন নদীর দক্ষিণপূর্ব উপকূলীয় উপনদী জিংগু অতিক্রম করার কথা ছিল তাঁদের। চিঠিতে তিনি তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে উল্লেখ করেন এবং অভিযানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন। একজন স্থানীয় রানার চিঠিটা বহন করে নিয়ে আসে।
তাঁর ঘোড়ার মৃত্যুর কারনে তিনি এই ক্যাম্পের নাম দেন, ডেড হর্স ক্যাম্প। এই চিঠির পর তাঁদের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
অনেকের ধারনা স্থানীয় আদিবাসীরা তাঁদের খুন করেছে, যদিও সঠিক কোনও প্রমান এর স্বপক্ষে পাওয়া যায়নি। কালাপালোস আদিবাসীরা সর্বশেষ তাঁদের দেখেছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী জ্যাক এবং রিমেক ছিল সেই সময়ে পঙ্গু এবং অসুস্থ।
আবার অনেকের মতে আমাজনের প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রতিকুলতা এবং হিংস্র জন্তুর আক্রমনেও তাঁদের মৃত্যু হতে পারে। অনেকে আবার মনে করেন, ফাওলেট তাঁর স্মৃতিশক্তি হারিয়ে স্থানীয় এক উপজাতি গোত্রের প্রধান হিসেবে বাকি জীবন পার করেছেন।
অনুসন্ধানঃ
অনেক অভিযাত্রীরাই এরপর অনুসন্ধান করেছেন ফাওকেটের ভাগ্য জানার জন্য, কিন্তু সবই ছিল বৃথা। অনেক রকম গুজব শোনা গেছে পরবর্তীতে, কিন্তু সেগুলো যাচাই করার কোনও পথ ছিলনা। ফাওলেটের ভাগ্য জানার জন্য প্রায় ১৩টি এক্সপিডিসনে প্রায় ১০০ জন অভিযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু আজ পর্যন্ত সঠিক কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
১৯২৭ সালে ফাওকেটের একটি নেম-প্লেট পাওয়া যায় স্থানীয় এক ইন্ডিয়ান উপজাতির কাছে। নেম-প্লেটটি ছিল ওই আদিবাসীদের প্রধানকে দেয়া ফাওলেটের উপহার। পরবর্তীতে ১৯৩৩ সালের জুন মাসে কর্নেল বোটেলহো ম্যাটো গ্রসোর কাছাকাছি ফাওকেটের ব্যবহৃত একটি কম্পাস উদ্ধার করেন। জঙ্গলে প্রবেশ করার আগে তিনি কম্পাসটি ফেলে রেখে গিয়েছিলেন।
ফাওকেটের রোমাঞ্চকর এবং রহস্যময় অভিযান এবং তাঁর এই নিরুদ্দেশ হওয়া ইতিহাসের পাতায় আজও এক অমীমাংসিত রহস্য। ১৯২৫ সালের সেই অভিযানে ফাওকেট নিশ্চিত ছিলেন যে আমাজনের গভীরে হারানো এক শহর খুঁজে পেয়েছেন তিনি, পরবর্তীতে অনেকে যেটাকে এল-ডোর্যাডো নামে আখ্যায়িত করে।
তথ্যসুত্রঃ
উইকিপিডিয়া
প্রোজেক্ট গুটেনবার্গ এক্সপিডিশন রিপোর্ট
রয়্যাল জিওগ্র্যাফিকাল সোসাইটিঃ এক্সপিডিসন রিপোর্ট ভলিউম-২৮,৩১,৩৩,৩৫,৩৭,৪১,৪৫,৪৬,৪৭
http://www.fawcettadventure.com/
https://slotbet.online/