#পর্ব_০৭
নীলা আমার কাধে মাথা রেখে বললো,”দেখ আরমান! কি সুন্দর চাঁদ তাইনা? কথা দে বিয়ের পরে ঠিক এভাবেই তুই আমাকে নিয়ে প্রতি রাতে বাহিরে অন্তত কিছু সময় কাটাবি। আমি নীলার দিকে তাকিয়ে ওর মাথা তুলে কপালে একটা চুমু দিয়ে বললাম,”কথা দিলাম…তাই হবে”
হঠাৎ আমার ফোনটা বেজে উঠল। মুক্ত ফোন দিয়েছে।
আমি/ হ্যাঁ,মুক্ত বল?
মুক্ত/ কোথায় তুই? তাড়াতাড়ি চলে আয়.। জেমি আপু নীলাকে খুজতেছে।
আমি/ আচ্ছা,,,যাচ্ছি।
তারপর আমি নীলাকে বললাম…”নীলা চল! জেমি আপু নাকি তোকে ডাকছে। এখানে বেশিক্ষণ থাকা ঠিক হবেনা। কেউ দেখলে খারাপ ভাববে।
নীলা / কেউ কিচ্ছু ভাব্বেনা রে পাগল। কারন আমি আর জেমি আপু প্রতিদিন সন্ধায় পুকুর পাড়ে বসে সময় কাটায়। আজকে জেমি আপু বিজি তাই তোর সাথে আসছি।
আচ্ছা এখন চল। বলে আমি আর নীলা চলে আসলাম…। বাসায় এসে দেখি জেমি আপু আমাদের জন্য ওয়েট করতিছিল।
জেমি আপু/ কিরে তোমরা দু’জন কোথায় হারিয়ে গেছিলে? কোন খোজ খবর নাই
আমি কিছু বলার আগেই নীলা বলে উঠলো,”পুকুর পাড়ে গেছিলাম আপু। চাঁদ দেখতে। তুমি আজকে বিজি। আর রাতের বেলা ভয় করে। তাই আরমানকে সাথে গেছিলাম।
জেমি আপু/ ধুর ছাই…! তোমরা গেছো তা বলবেবা?? আমিও যাবো। কালকে আমার বিয়ে। বিয়ের পর আর যাওয়া হবে কিনা…। চলোনা সবাই আরেকবার যাই।?
আমি/ আচ্ছা আপু চলো।
সবাই বাড়ির পেছনে পুকুর পাড়ে গেলাম। সিঁড়ি বাধা ঘাট। সবাই সেই সিঁড়িতে বসলাম। সবার একদিকে নজর ছিলো। পুকুরের পানির দিকে। বাতাসে পানি ঢেউ খেলছিলো। যার ফলে চাঁদের আলো চিক-মিক করছিলো।
জেমি আপু/ কিরে সবাই চুপ কেন? কেউ একটা গল্প শোনাও…। শুনি…
মুক্ত/ আপু…আরমানের থাপ্পর খাওয়ার কাহিনি শুনে দেখো। অনেক মজা পাবে।
জেমি আপু/ what!! ভাই… তোমাকে থাপ্পর মারছে? বলনা…একটু শুনি। অনেক ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে।
মুমু-মৌ-মুক্ত সবাই একসাথে বলতে লাগলো,”হা…হা….হা আরমান তর থাপ্পর গল্পটা বল..আমরাও একটু শুনি।
আমি/ আরে না”না”না। তেমন কিছু না। গ্রালফ্রেন্ড এর হাতে চুইংগাম ছিলো। শুধু তাকে সক্ষেপে বলেছিলাম “চুমু দেতো”। মানে তার হাতের চুইংগামটা আমার মুখে দিতে বলেছিলাম। কিন্তু গ্রালফ্রেন্ড আমায় সব বন্ধুদের সামনে থাপ্পর দিছিলো।
জেমি আপু/ so sad!! তারপর কি হলো ভইয়া? তুমি ঐ মেয়েকে কিছু বলনি?
আমি/ না আপু কিছু বলিনি,,,কিন্তু করেছি।
জেমি আপু/ উম্ম…কি করেছো?
আমি/ ঠিক ঐদিন’ই আমি প্রায়ভেট রুমে একা বসে চুইংগাম খাচ্ছিলাম। তখন মেয়েটা বলেছিল,” কিরে কি করিস? একটা চুমু দেতো”। আমিনা তখন ওকে চেপে ধরে চুমা দিছিলাম।
জেমি আপু/ কি বলো ভাই?? O my God!! তারপর?
আমি/ তারপর মেয়েটা ক্ষেপে গেছিলো…তখন আমি বললাম,”তাহলে আমার চুমু এখন আমায় ফেরত দে।”
সবাই তখন একসাথে হেসে উঠলাম। আমার আর বুঝতে দেরি হলোনা যে নীলা খেপে লাল টমেটো হয়ে গেছে। শুধু জেমি আপু না থাকলে আমায় আজকে সেন্ডেল পিটা করতো…।
জেমি আপু/ ভাই..! আমি যদি ছেলে হতাম আর তোমার জাইগায় আমি থাকতাম…তাহলে আমি ১টা না..২টা কিস করতাম।
হঠাৎ নীলা রেগে গিয়ে বললো,”এই তোদের নেকামি থামাবি নাকি আমি চলে যাবো? বালের নেকামি শুরু করছে। আমার আর একটুও ভালো লাগছে না।
জেমি আপু/ ও মেরি বোন….তুই খেপিস কিল্লাই? তোর আফসোস হচ্ছে নাকি তোর সাথে এমন হয়নাই তাই?
জেমি আপুর কথা শুনে নীলা আরও রেগে গিয়ে বললো,”আমি আর থাকবোই না”। নীলা উঠে যেতে লাগতেই আমি নীলার হাত ধরলাম।
নীলা / হাত ছাড়, আরমান !!
আমি/ না ছাড়বোনা। কৈ যাচ্ছিস রাগ করে?
রুপা/ আমার ইচ্ছা। তুই হাত ছাড়।
আমি হাত না ছেড়ে হাত ধরে আরো জোড়ে টান দিয়ে হাত ছেড়ে দিলাম। রুপা পেছনে ঘুরে আমার গালে “ঠাস” করে একটা থাপ্পড় মারলো। মেরে চোখ মুছতে মুছতে চলে গেলো।
জেমি আপু/ এটা কি হলো? ওর এতোবড়ো সাহস? আর এতো রাগ? চলো সবাই বাসায় চলো। আজকে ওর একদিন কি৷ আমার একদিন। ওকে আজ মেরেই ফেলবো।
আমি/ আপু কাল্কে তোমার বিয়ে। আজকে নীলাকে কিছু বলনা প্লিজ। ও রাগ করে থাকলে সব মজা মাটি হয়ে যাবে।
মুক্ত/ হ্যাঁ,আপু আরমান ঠিক বলছে।
জেমি আপু/ তাই বলে এতটুকুতেই থাপ্পর মারবে? সবকিছুর একটা লিমিট আছে তো?
আমি/ আপু আমি কিছু মনে করিনি। নীলা আমায় প্রায় দিনই মারে। এটা নতুন কিছু না। আমার জন্য মেয়েটার মন খারাপ হলো। আমি ওকে ডেকে নিয়ে আসি তোমরা থাকো। আমি ওর রাগ ভেঙ্গে নিয়ে আসছি।
জোৎনার রাত। কারেন্ট ছিলোনা। আমি নীলাকে খুজছিলাম। ঠিক এমন সময় হঠাৎ কে জানি আমার হাত ধরে টান দিলো আম গাছের পেছনে। তারপর মাথা চেপে ধরে লম্বা কিস দিলো। আমি যখন বুঝতে পারলাম এটা নীলা তখন আমিও রেস্পন্স করতে লাগলাম। ঠিক তখনি নীলা আমায় ধাক্কা দিয়ে দুরে সরিয়ে দিলো———
চলবে,,,,,,,,,
♥#বান্ধবী_যখন_বউ#♥
★★#লেখক_আরমান_হুসাইন#★★
#পর্ব_০৭
https://slotbet.online/