• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন
  • [Welcome]
নোটিশ ::
আপনার নিজস্ব লেখা- ছোট গল্প,ধারাবাহিক গল্প, কবিতা,ভূতের গল্প আমাদের ম্যাগাজিন ওয়েবসাইটে পাবলিশ করতে এক্ষুনি যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ🍁

বান্ধবী_যখন_বউ

রিপোর্টারের নাম / ১১০ বার
আপডেট সময়: মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

#পর্ব_০৫

বাসায় এসে মোবাইল হাতে নিয়ে দেখি নীলা মেসেজ দিয়েছে~~
নীলা / কিরে কুত্তা…মজা নিলি ঠিকি। কিন্তু যে তোকে মজা দিলো তার কথায় ভুলে গেলি?

আমি/ ওরে…কুত্তি। আমি নাহয় দু’বার মজা নিছি। কিন্তু তুই ৩য় বার যে প্রতিশোধ নিলি…ছি ছি ছি। আমায় একা পেয়ে তুই এভাবে ইজ্জত লুটে নিলি?

নীলা / আহা রে!! হারামি নেকামু করিস? ঐ শোন….তোকে যে কারনে মেসেজ দেওয়া°°°

আমি/ বল…কি বলবি?

নীলা / সামনে শুক্রবার আমার বড়ো আপুর বিয়ে। তোর দাওয়াত আগের দিন বৃহস্পতিবার চলে আসবি। অনেক মজা হবে।

আমি/ আমাকে এভাবে দাওয়াত দিচ্ছিস মানে? জামাই আদর দিবি নাকি?

নীলা / আগে আয়…কেমন আদর দেই তারপর দেখিস নাহয়।

আমি/ কাকে কাকে দাওয়াত দিচ্ছিস রে? মানে বন্ধুদের…।

নীলা / আম্মুকে বললাম যে “আম্মু আমার চারটা বন্ধুকে দাওয়াত দিবো”….আম্মু বললো কে কে? আমি বলছি যে…মৌ,মুমু,আরমান আর একজন। এই চারজন আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। আরেকজন তুই ঠিক কর তোর কোন বন্ধুকে নিয়ে আসবি?

আমি/ মুক্তকে নিয়ে যাই…। মৌ তাহলে খুব খুশি হবে। অনেক মজা হবে।

নীলা / কিন্তু, কোন ঝামেলা হবে নাতো?

আমি/ আরে মুক্ত ভালো ছেলে। কিছু হবেনা। আর আমিতো আছিই।

নীলা / Ok baby…Thik ase.
_________________________
বৃহস্পতিবার নীলা স্কুলে আসলো না। অবশ্য নীলা একথা আগের দিন আমাদের বলে দিয়েছিলো। স্কুল ছুটির পর আমি,মুক্ত,মৌ আর মুমু ভ্যানে উঠলাম নীলার বাড়ির উদ্দেশ্যে। মুক্ত আর মৌকে সামনে বসতে দিয়ে আমি আর মুমু ভ্যানের পেছনে বসলাম।

প্রায় ৩০ মিনিট পরে আমরা নীলার বাসার সামনে পৌছালাম। আমরা নীলাকে দেখতে পেলাম ছাদে দাঁড়িয়ে আছে। হয়তোবা আমাদের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। ঠিক এমন সময় মুমু আমার হাত চেপে ধরে বললো,”আরমান,দেখ তোর হাত ধরে থাকা দেখে নীলা পুরাই আগুন হয়ে যাবে”!

নীলা ছাদ থেকে নেমে এসে আমাকে আর মুমুকে ভ্যানের পেছনে বসে থাকা দেখে তো রাগলোই….তার উপর মুমু আবার আমার হাত ধরে আছে এটা দেখে নীলা খেপে পুরো ফায়ার।

নীলা সোজা এসে আমার দিকে তাকালো। আমি নীলার চোখের ভাষা বুঝি। নীলা চোখ বড়ো-বড়ো করে,,,ভ্রু কুঁচকে,,,গাল ফুলিয়ে আমার দিকে তাকালো। আমিতো ভয়ে এক ঝটকায় মুমুর হাত থেকে আমার হাত ছাড়িয়ে নিলাম।

আমরা ভ্যান থেকে নেমে বাসার ভেতরে যাচ্ছিলাম। মুমু,মুক্ত আর মৌ বাসার ভেতরে ঢুকলো। নীলা আমার সামনে দাঁড়িয়ে পথা আটকে বললো, “সালা হারামি! তোর আজকে খবর আছে।” আমারতো ভয়ে আর আনন্দে গলা শুকিয়ে গেলো। তাই আর কিছু বলতে পারলাম না নীলাকে।

আমরা সোজা নীলার মা-বাবার কাছে গেলাম। সেখানে দেখলাম নীলার বড়ো আপুও আছে। সালাম দিয়ে আমরা খোজ খবর নিলাম। পরিচয় হলাম। তারপর নীলা আমাদের একটা রুম দেখিয়ে দিয়ে গেলো। জেমি আপু(নীলার বড়ো বোন) আমাদের জন্য হালকা নাস্তা নিয়ে আসলো। আর আমাদের বললো যেনো আমরা তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নিই…বিকেলে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান।

নাস্তা করার পর কিছুক্ষন সবাই একসাথে গল্প করলাম। তারপর আমাদের রুমে গেলাম রেডি হওয়ার জন্য। আমি ওয়াশরুমে ঢুকলাম ফ্রেশ হওয়ার জন্য(ওয়াশরুমটা আমাদের রুমের সাথে এডজাস্ট ছিলো) হঠাৎই নীলা রুমে এসে বললো…

নীলা / ঐ….মৌ। তুই আর মুক্ত প্লিজ একটু বাহিরে যা। আমি মুমুর কাছে থেকে শাড়িটা পড়িয়ে নিই। আর আরমান কৈ?

মৌ কেবল বলতে গেলো…”আরে আরমান তো ফ্রেশ হতে ওয়াশ….” অমনি মুক্ত মৌ এর মুখ চেপে ধরে বললো। আরে আরমান ফ্রেশ হতে রুমের বাহিরে ঠান্ডা বাতাস খেতে গেছে। আমরা যাচ্ছি তুই রেডি হো নে….Best of luck..বলেই মুক্ত মৌ এর হাত ধরে টেনে রুম থেকে বের করে নিয়ে গেলো।

নীলা / “Best of luck” বললি কেন?মানে?

মুমু/ আরে কিছু না। আমি তোকে শাড়ি পড়িয়ে দেই আয়।

নীলা হুম…বলে রুমের দরজাটা লাগিয়ে দিলো। মুমু নীলাকে শাড়ি পড়াচ্ছিলো। আমি ফ্রেশ হয়ে প্যান্ট পড়ে যেইনা ওয়াশরুমের গেট খুললাম ওমনি দেখি নীলা অর্ধ শাড়ি পরা অবস্তায়।

নীলা আমায় দেখে “আঁ..আঁ..” করে চিল্লানি দিলো। মুমু জিহবাতে কামর দিয়ে চোখ বন্ধ করলো। আর আমি হা করে নীলার দিকে তাকিয়ে আছি।
নীলা ঐ অবস্তায় শাড়ি ফেলে দিয়ে ব্লাউজ আর পেটিকোট পড়া অবস্থায় আমার দিকে তেড়ে আসলো। আমি বললাম আমি তোর কিছু দেখি নি। নীলা কোন কথা না শুনে দু’হাত দিয়ে আমার গলা চেপে ধরে ঝাকাতে লাগলো…। আর গালি দিতে লাগলো…”কুত্তা,হারামি,জানোয়ার” তোকে আজ মেরেই ফেলবো হে।

মুমু দৌড়ে এসে নীলার হাত আমার গলা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললো..”ঐ দাড়া..ও দোষ করছে তাই ওর শাস্তি হবে”। বলেই মুমু মেঝে থেকে শাড়িটা তুলে নিয়ে আমার হাতে দিয়ে বললো এবার আরমান তুই শাড়িটা নীলাকে পড়িয়ে দিবি বলেই আমাকে চোখ মারলো মুমু।

আমি বললাম নীলার যদি কোন সমস্যা না থাকে তাহলে আমি শাড়ি পড়াতে রাজি। কথা বলা শেষ না হতেই নীলা চিল্লায় উঠে বললো, “কুত্তা তুই আমার গায়ে হাত দিবি না”

আচ্ছা নে তোর গায়ে হাত না দিয়েই শাড়িটা পড়িয়ে দিবো। এই মুমু তুই উল্টা দিকে ঘোর..নীলার লজ্জা করছে মনে হয়।

আমার কথা শুনে মুমু অন্য দিকে হলো। আমি শাড়ির এক মাথা ধরে নীলাকে বললাম পেটিগোট টা টেনে ধর। নীলা আমার কথা শুনে রেগে গিয়ে বললো, “কি বললি হারামি?” ওদিকে মুমু হাসতে হাসতে শেষ।

কিছুক্ষন পরে নীলা বললো…আমি বুঝছি সব তোদের প্লান। আচ্ছা তুই তোর মতো করে আমায় শাড়ি পড়িয়ে দে। আমি নীলার গাল টেনে ধরে বললাম, “Now that’s like a good girl”.

আমি নীলার কোমরে শাড়ির এক মাথা গুজে দিয়ে শাড়ি পেচিয়ে কুচি করে কুচিটা শাড়িতে ঢুকিয়ে দিলাম। তারপর অন্য অংশ সামনে দিয়ে ঘুড়িয়ে শাড়ির আঁচলটা নীলার মাথার ওপরে দিয়ে থুতনিটা তুলে বললাম,” একদম আমার বৌ”। নীলা আমার গাল টেনে দিয়ে বললো,”ওলে বাবা লে..আসছে আমার বর”

এমন সময় হঠাৎ মুক্ত আর মৌ বাহিরে থেকে ডাক দিলো,,”কিরে আর কতক্ষণ? শাড়ি পড়তে এতো সময় লাগে?” নীলা ধাক্কাতে-ধাক্কাতে আমায় ওয়াশরুমের ভেতরে দিয়ে গেট বাহিরে থেকে লাগিয়ে দিলো। রুমের দরজাটা খুলে দেওয়ার পরে ওয়াশরুমের দরজাটা খুলে দিলো। আমি বাহিরে আসা মাত্রই মুক্ত বললো…

মুক্ত/ এ বন্ধু…তোকে এমনে আটকে রাখছে কিডা? তাউ আমার ওয়াশরুমে?

আমি/ আর কসনা রে…যে কামে আসনু সে কামই হলো না। বালডা।

মুক্ত/ তোকে দিয়ে কিছু হবেনা। শুধু শাড়ি পড়ানো ছাড়া।

আমি/ তোক দিয়ে কি হবে হে? খালি হাত ধরা ছাড়া?

আমাদের তর্ক দেখে নীলা খেপে গিয়ে বললো,”উহহ…তোরা যাতো বাল” আমাদের এখনো হয় নি।

আমি/ আমরা এবার রেডি হবো। তোরা যা। ভাগ….

নীলা / কেন? আমরা থাকলে কি সমস্যা? যাবো না।

আমি/ কোন সমস্যা নাই। শুধু পাঞ্জাবি পড়বো। প্যান্ট পড়া হয়ে গেছে।

নীলা আমার হাত থেকে পাঞ্জাবিটা নিয়ে বললো,”দে আমি পড়িয়ে দেই।” ঠিক তখনি মুমু বললো….

দেখ দিনি…একেই কয় বিনিময় প্রথা। একজন শাড়ি পড়িয়ে দিলো। আর অন্যজন এখন পাঞ্জাবি পড়িয়ে দিচ্ছে।

বাহ….
কথা শুনে সবাই হেসে উঠলাম।

চলবে,,,,,,,,,,

♥#বান্ধবী_যখন_বউ#♥
★★#লেখক_আরমান_হুসাইন#★★
#পর্ব_০৫


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
https://slotbet.online/