#পর্ব_০২
দুজন দুজনকে চোখ মেরে সিটে গিয়ে বসলাম। আর এভাবেই ৫ম শ্রেণি পার হয়ে গেলো।
২৫ জানুয়ারি ছিলো নীলার জন্মদিন। আমি জানতাম না। একটা ফ্রেন্ড ২৪ জানুয়ারি আমাকে বললো যে কাল নাকি নীলার জন্মদিন।
এক দিনের ভেতরে কিবকরা যায় এখন? ভাবতে শুরু করলাম। অনেক চিন্তা করার পর একটা বন্ধুকে সাথে নিয়ে কিসমেটিক্র এর দোকানে গেলাম। সেখান থেকে ১সেট নীল চুড়ি কিনলাম।
২৫ জানুয়ারি মেয়েরা স্কুলে আগেই গেছিলো। দেখলাম কিছু বেলুন দিয়ে তারা রুম সাজিয়েছে। আমরা ছেলেরা দূরে দূরে ছিলাম। শুধু দেখছিলাম।
আমি বুঝতে পারলাম যে নীলার মন কেন জানি মন খারাপ। আমি ওর কাছে গিয়ে বললাম….
আমি/ কিরে নীলা..তোর আজ জন্মদিন..কিন্তু মন খারাপ…কারন কি??
নীলা / সর তুই আমার সাথে কথা বলবি না….বলে নীলা চলে যেতে লাগলো।
আমি পেছন থেকে হাত ধরে বললাম। “আরে রাগ করে কই যাস??” দাড়া…
নীলা / হাত ছাড় বলছি…না হলে ভাল হবে না।
আমি/ দাড়া আমি তোর রাগ কমিয়ে দিচ্ছি।
এই কথা বলে আমি পকেট থেকে চুড়িগুলা বের করে নীলার হাতে দিলাম। ঠিক তখনি ৩-৪ জন বান্ধবী এসে বললো, “এভাবে চুড়ি দিলে রাগ কমবেনা। একটা একটা করে চুড়ি পড়িয়ে দিতে হবে আর প্রতিবার Happy Birthday বলতে হবে।
আমি/ আচ্ছা তাই হবে নে…তোদের কথাই থাকলো।
আমি একটা একটা করে সব চুড়ি নীলার দুই হাতে পড়িয়ে দিলাম। তারপর ওকে বললাম..
” Thank you” ও দিলি না ফইন্নি।
নীলা / আচ্ছা…ছুটির পর দাঁড়াস। কথা আছে।
আমি/ আচ্ছা নে….দাঁড়াবো।
————————————-
স্কুল ছুটির পরে আমি গেটে গিয়ে দাড়ালাম। সবার শেষে নীলা বের হলো। তারপর আমার কাছে এসে একটু সাইটে দাড়ালো।
আমি/ নীলা তোকে আমার আরেকটা জিনিস দেওয়ার ছিলো রে…। নিবি??
নীলা / আবার কী দিবি? আচ্ছা দে…
আমি/ দুই চোখ বন্ধ কর। এবার দুই হাত সামনে আগায় দে…।
নীলা / আচ্ছা….নে….দে।
আমি পকেট থেকে স্টিলের আংটি টা বের করে নীলার হাতে দিয়ে হাত বন্ধ করে দিলাম।…নে এবার চোখ খুলতে পারিস তুই।
নীলা / (হাত খুলে) এটা আমি নিতে পারি কিন্তু একটা শর্ত আছে।
আমি/ শর্ত….কি শর্ত বল??
নীলা / এটা(রিংটা) আমাকে পড়িয়ে দিতে হবে। আর প্রমিজ করতে হবে যে…তুই জীবনে কোন মেয়ের সাথে প্রেম করবি না।
আমি নীলার নখে আংটিটা পড়িয়ে দিয়ে নীলার মাথায় হাত রেখে বললাম….পাক্কা….প্রমিজ
“এই আংটিটা যতদিন তোর হাতে আছে আর যতদিন তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড আছিস ততদিন আমি কোন মেয়ের সাথে প্রেম করবোনা।”
নীলা আমার দুই গাল টেনে দিয়ে বললো..”ওলে বাবা লে…”। আচ্ছা চল এখন। প্রায়ভেটে যেতে দেরি হলে স্যার আবার বকা দিবে।
আমিঃ আচ্ছা…চল যাই।
……………….————-………….
নীলার ফোন ছিলো না। কিন্তু তখন আমার কাছে “নোকেয়া ১১০০” ফোন ছিলো। নীলা ওর মায়ের ফোন থেকে মাঝে আমায় মেসেজ দিতো।
আমাদের একটা মেসেজ কোড ছিলো। নীলার মায়ের ফোনে আমি “No title” লিখে মেসেজ দিতাম। যদি নীলা রিপ্লে দিতো তাহলে স্কুলে বলে দেওয়া কোডটা লিখতো…।
যেমন… cde,123, mpo এরকম কিছু। আর তখনি আমি বুঝতাম যে এটা নীলা।
আমার আর নীলার টিফিন বক্স৷ আর পানির বোতল একই রকমের ছিলো। যার কারনে বন্ধুরা মাঝে মাঝে মজা করে পালটে দিতো। একদিন বাসায় আম্মু টিফিন বক্স খুলে আমায় ডাক দিলো….
আম্মু/ কিরে তোকে তো আমি আজ মাংস দিয়ে ভাত দিছিলাম। তাহলে বক্সে মাছের কাটা আসলো কোথা থেকে।
আমি ভবছিলাম যাহ…হারামিরা তার মানে আজকেও আমার টিফিন বক্স নীলার বক্সের সাথে পাল্টে দিছে….কি বলি এখন???
আম্মু/ কিরে কিছু বলছিস না যে?? আমি তোকে কি জিজ্ঞেস করলাম??
আমি/ হায় রে আল্লাহ…আম্মু তাহলে আমি মনে হয় বন্ধুর বক্স নিয়ে চলে আসছি।
আম্মু/ এটা বলতে এতক্ষন লাগে?
আমি/ আরে আমি ভাবছিলাম বক্সটা এক্সচেঞ্জ হলো কোথায়??
আম্মুকে কথাটা বলে আমি দৌড় দিলাম আমার রুমে। আমি ভাবতে লাগলাম..”আজকে টিফিন খাওয়ার পরে তো বক্স ধুই নি। যদি নীলার মা বক্স খোলার পর মাছের কাটার জায়গাতে মুরগীর হাড্ডি দেখে তাহলে নীলা শেষ।”
তারপর আমি ভয়ে ভয়ে নীলার আম্মুর ফোনে একটা ফাকা মেসেজ দিলাম
তারপর আরেকটা মেসেজ দিলাম….
<39 taka recharge korle 60 poisa minute> তাও কোন রিপ্লে আসলো না।
আমি ভয় পেয়ে গেলাম…তারপর ফোন দিলাম যা হবার হবে।…কথায় আছে “যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই রাত হয়” আমারও তাই হলো। নীলার মা ফোন ধরলো। আমার গলা শুকায় গেলো।
কিন্তু আমি ফোন কাটলাম না। কেটে দিলে যদি সন্দেহ করে?? তাই আমি কথা চালিয়ে গেলাম…
~হেল্ল! আসসালামু আলাইকুম। গ্রামিনফোন থেকে বলছিলাম। আপনি কি মমতাজের গান শুনতে চান?
তাহলে ১ চাপুন।🥴
আসিফ আকবরের গান শুনতে চান??
তাহলে ২ চা…চা..পু….পু…
বলেই কেটে দিলাম যেনো মনে করে নেটওয়ার্ক সমস্যার জন্য ফোন কেটে গেছে।
আর নীলার মায়ের ফোনে আমার নাম্বার “Gp offer” লিখে সেভ করা ছিলো তাই কেও সহজে বুঝতে পারতো না…
চলবে,,,,,,,,
♥#বান্ধবী_যখন_বউ#♥
★★#লেখক_আরমান_হুসাইন#★★
#পর্ব_০২
https://slotbet.online/