#পর্ব_০১
জীবনের সবচেয়ে মজার সময় হলো স্কুল জীবন। কতই না মজা হয় স্কুল জীবনের দিনগুলাতে। গ্রামের একটা স্কুলে ক্লাস থ্রি পর্যন্ত ছিলাম। তারপর ৪র্থ শ্রেনীতে ভালো একটা স্কুলে ভর্তি হলাম।
আমি মোটা-মোটি ভালো ছাত্র ছিলাম। কিন্তু খেলাধুলাতে “BOSS” ছিলাম। তাই নতুন স্কুল হলেও খুব অল্প দিনেই প্রায় সকলের ক্লোজ ফ্রেন্ড হয়ে গেলাম।
যখন ৪র্থ থেকে ৫ম শ্রেনীতে উঠলাম তখন আমার রোল হলো ২। ৫ম শ্রেনিতে নতুন অনেক ছেলে-মেয়ে ভর্তি হয়েছে। ছেলে-মেয়ে সকলেই একসাথে ক্লাস করতাম। আর আমি দূরন্ত-রসিক টাইপের ছেলে ছিলাম যার কারনে অল্পতেই সবার সাথে মিশে যেতাম।
কিন্তু আমি খেয়াল করে দেখতাম একটা মেয়ে একটু চুপ-চাপ থাকতো৷ কথা-মজা কম করতো।কিন্তু মুখে সবসময় হাসি থাকতো। মিট-মিট করে হাসতো।
চোখে যেনো সবসময় মায়া লেগে থাকতো। ক্লাসের ফাঁকে যখনি তার দিকে তাকাতাম সে দেখতে পেত যে আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি তখনি চোখ বড়ো করে ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকাতো….তখন আমি আবার ক্লাসের দিকে মনযোগ দিতাম। একটু পর আবার তাকাতাম। কেন জানি ভালো লাগা শুরু হলো।
প্রতিদিন একই বেঞ্চে বসতাম। মানে মেয়েটা যে বেঞ্চে বসে তার পাশের বেঞ্চে। একদিন হঠাৎ করে পেছনে বসলাম। ক্লাসে ব্যাগ রেখে পানি খেতে বাহিরে টিউবওয়েলে গেলাম। পানি ভরছিলাম এমন সময় পাশে তাকিয়ে দেখি মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে। আমার দিকে বোতল এগিয়ে দিয়ে বললো…
মেয়ে/ বোতলটা ভোরে দিবে?
আমি/ দাও…দিচ্ছি।
মেয়ে/ আচ্ছা…তুমি আজ পেছনে বসলে কেন?
আমি/ জায়গা পাই নাই তাই বসছি…।
মেয়ে/ ও…আচ্ছা।
তারপর মেয়েটা চলে গেলো। আমি একটু পরে রুমে গিয়ে দেখলাম মেয়েটা তার ব্যাগ নিয়ে পেছনের বেঞ্চে চলে গেছে। ক্লাস শুরু হলো…। প্রতিদিনের মতো আজকেও আমি তার দিকে তাকালাম। আর সেও আমার দিকে তাকালো। কিন্তু আজকে কেন জানি রাগ করে চোখ বড়ো করলো না। আজকে সুন্দর একটা হাসি দিলো। গালে হাত দিয়ে তাকিয়ে থাকলাম তার দিকে। আর সেও মাঝে মাঝে তাকাতো। মন কেন জানি অনেক ভালো লাগলো।
এভাবেই কাটছিলো দিন। হালকা কথা-বাত্রা আর তাকানোর মাঝে।
১৪ই ফেব্রুয়ারী স্কুলে গিয়ে অযথা একটা গোলাপ কিনে হাতে নিয়ে বন্ধুদের সাথে ঘুরছিলাম। এমন সময় মেয়েটা আমাদের সামনে এসে বললো, “গোলাপ কিনছো কিন্তু দেয়ার মতো মানুষ পাচ্ছোনা?” SO SAD…!! বলে চলে গেলো।
আমি বন্ধুদের বললাম তোরা যা…আমি যাচ্ছি। বলে পেছনে ঘুরে মেয়েটার পিছু গেলাম। তারপর ভয়ে-ভয়ে ডাক দিলাম….
আমি/ নীলা ,শোন!!!
নীলা / জ্বি…বলো। কিছু বলবে নাকি?
আমি/ হ্যাঁ,বলবো তাই ডাক দিয়েছি।
নীলা / আচ্ছা বলো…শুনি।
আমি মাথা নিচু করে গোলাপটা সামনে নিয়ে বললাম “তুমিকি আমার বন্ধু হবে?”
নীলা / আমার দিকে তাকাও…মাথা তোল…। এখন বলো…কি বলবে??
আমি নীলার দুই হাত ধরে…”তুমিকি আমার বন্ধু হবে নীলা ?”
এবার ঠিক আছে বলে নীলা আমার দুই গাল টেনে দিয়ে বললো, “হ্যাঁ,হবো। এখন গোলাপটা দাও।
আমি/ ফইন্নি নাকি? চেয়ে ফুল নিচ্ছে?
নীলা / হুম..আমি ফইন্নি তো কি হইছে? দাও গোলাপ। বলে নীলা আমার হাত থেকে গোলাপটা নিয়ে দৌড় মারলো।
আমার খুশি দেখে কে….শুরু হলো দুষ্টুমি। আমরা একসাথে ৯ জন প্রায়ভেট পড়তাম। আমি সবসময় নীলার পেছনে বসতাম। শুধু পা দিয়ে ওর পায়ে লাত্থি-ঘুতা দিতাম। মাথায় কাগজ ছিড়ে কুটি করে দিতাম। চুল বেধে আসলে সুযোগ বুঝে চুলের স্টিক টান দিয়ে বের করে নিতাম। আর নীলা তখন রেগে গিয়ে পেছনে ঘুরে ধপাস করে লাগাতো….। মজা লাগলো তার রাগ দেখতে। আর এই দুস্টুমির জন্য স্যারের হাতে প্রায়ই মার খেতাম।
স্কুলে প্রতিদিন একসাথে টিউবওয়েলে পানি খেতে যেতাম। পানি খাওয়ার পর কোনদিন নীলা আমার গায়ে পানি ছিটিয়ে দিতো। আবার কোনদিন আমি ওর গায়ে পানি ছিটিয়ে দিয়ে দৌড় মেরে ক্লাসে যেতাম।
নীলা ক্লাসে এসে স্যারকে বলতো,” স্যার, দেখেন পানি দিয়ে গা ভিজিয়ে দিয়েছে।”
আমি/ আমি না স্যার…ঐ আগে আমার গায়ে পানি দিয়েছে। তাই আমিও দিয়েছি।
স্যার/ আচ্ছা দু’জন- দুজন কে একটা করে মার।
ঐ তুই মার…না তুই আগে মার…না তুই আগে মার….🥴🥴
স্যার/ উহহ…যা সিটে গিয়ে বস। তোদের বিচার করতে করতে আমার ক্লাস শেষ হয়ে যাবে।
তারপর আমরা দু’জন- দু’জনের দিকে তাকিয়ে চোখ মেরে বা জিব্বা বাকা করে সিটে গিয়ে বসতাম।😜😜
চলবে,,,,,,,,,,,,,
ভুল এুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন
#বান্ধবী_যখন_বউ#
#লেখক_আরমান_হুসাইন#
#পর্ব_০১
https://slotbet.online/